মহেশপুরে বিজিবির বিরুদ্ধে মামলার বাদীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন 


ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
মহেশপুরে বিজিবির বিরুদ্ধে মামলার বাদীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন 
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে হত্যা মামলার বাদী কৃষক রফিকুল ইসলাম রফিকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 
মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে রফির মা লাইলী বেগম এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৩ জুন তার ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিকে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের ব্যানাকুড় মাঠ থেকে একটি বিদেশী অস্ত্রসহ গ্রেফতার দেখিয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির পক্ষ থেকে মামলায় জড়ানো হয়। বিজিবির এজাহারে দাবি করা হয়েছে সোর্স ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য সম্পূর্ণ উল্টো এবং অত্যন্ত ভয়াবহ।
তিনি দাবী করেন, রফি কোনো সন্ত্রাসী বা অস্ত্র ব্যবসায়ী নয়; তার একমাত্র অপরাধ সে একটি নির্মম জোড়া খুনের মামলার বাদী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সীমান্তের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত অস্ত্রধারী তরিকুল ইসলাম আকালে বাহিনী তারআরেক সন্তান শামীম ও দেবর মন্টুকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে। রফি ওই হত্যা মামলার বাদী হওয়ায় আকালে ও কবীর তার দলবল দীর্ঘদিন ধরে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। খুনি আকালে বাহিনী নিজেদের বাঁচাতে এবং রফিকে পথ থেকে সরাতে বিজিবির কিছু সদস্যকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করে এই ‘অস্ত্র উদ্ধারের মিথ্যা নাটক’ সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করেন লাইলী বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে রফি তার নিজের জমিতে গবাদিপশুর জন্য নেপিয়ার ঘাস কাটতে গিয়েছিল। ঘাস কেটে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে বিজিবির একটি টহল দল তার গতি রোধ করে। রফি সরল বিশ্বাসে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। বিজিবি সদস্যরা তার শরীর তল্লাশি করে অবৈধ কিছুই পায়নি। কিন্তু এরপর তাকে জোরপূর্বক টেনে ঘাসক্ষেতের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর ঘাসক্ষেতের এক কোণ থেকে ভারতীয় পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু উদ্ধার দেখিয়ে সেটিকে আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র হিসেবে দাবি করা হয়। এজাহারে বলা হয়েছে অস্ত্রটি নাকি রফির শরীর তল্লাশি করে পাওয়া গেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে দাবী করা হয়, জোড়া খুনের মামলাটি ভিন্ন খাতে নিতে এর আগেও রফিকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করেছে আকালে বাহিনী। গত ২০২৫ সালের ১১ মে রাতেও ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে রফিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, যা সৌভাগ্যবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সন্ত্রাসী চক্রটি রফিকে শেষ করতে না পেরে তারা এই সাজানো অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে রফির বোন জেসমনি আরা, মেয়ে লাকি বেগম, স্বজন আব্দুল আলীম, সোহরাব হোসেন, ইছাহাক সরদার, মহসিন আলী ও চঞ্চল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রফিকুল আলম জানান, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি সত্য এবং রফির কাছ থেকেই বিদেশী অস্ত্র পাওয়া গেছে। ফলে বিজিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ সত্য নয়।
উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে বিজিবি দাবী করেছে উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি রফির দেহ তল্লাসী করে পাওয়া যায়। অন্যদিকে গত ৩ জুন বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় অস্ত্রটি রফির নেপিয়ার ঘাস ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে বিজিবির দুই রকম তথ্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০