
সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে সৈকত এলাকা। তবে পর্যটনের আড়ালে কুয়াকাটা ও মহিপুর এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে মাদক উদ্ধার ও কারবারি গ্রেপ্তার হলেও পুরো চক্রটি এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা ও মহিপুরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, নির্জন সৈকত এলাকা, মৎস্যঘাট এবং উপকূলীয় কিছু অঞ্চলে গোপনে মাদকের লেনদেন হয়ে থাকে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ার সুযোগে সক্রিয় হয়ে ওঠে একাধিক চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়াবা ও গাঁজাই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে এ অঞ্চলে। কিছু ক্ষেত্রে মাদক সরবরাহে স্থানীয় দালাল ও বাহক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে আটক ব্যক্তিদের অনেকেই মূল চক্রের সদস্য নয়, বরং বাহক বা খুচরা বিক্রেতা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তরুণদের একটি অংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোঃ শহিদুল ইসলাম দেওয়ান বলেন, দক্ষিণ বাংলার প্রাণকেন্দ্র আমাদের কুয়াকাটা পৌরসভা আর আগের কুয়াকাটা নেই।এটি যেন ইয়াবার স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।কুয়াকাটা ইয়াবার ব্যবসা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।প্রায় ৮০% যুবসমাজ ইয়াবা ও গাজায় আসক্ত।এর ভয়াবহ প্রভাব প্রতিটি ঘরে ঘরে পড়বে। এখনই যদি আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করুন,যাতে আমাদের যুবসমাজ ভবিষ্যতে ধ্বংসের দিকে না যায়। পুলিশ প্রশাসন ও কুয়াকাটা শান্তিপ্রিয় জনগণ এবং রাজনৈতিক লোকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুয়াকাটা কে একটি মাদকমুক্ত ও শান্তিময় পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যটন শিল্পনির্ভর কুয়াকাটা-মহিপুর অঞ্চলের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় মাদকের বিস্তার রোধ এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে মাদকমুক্ত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে কুয়াকাটা।
আপনার মতামত লিখুন :