ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে এক প্রবাসী যুবকের নগদ টাকাসহ প্রায় সাড়ে ২৪ লক্ষ টাকার উপহার সামগ্রী হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী অর্থ ফেরত চেয়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযুক্ত তরুনি সোহানা খাতুন ও তার ভাই সোহেল রানার কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীপক্ষ প্রবাসী যুবক সাদ্দাম হোসেনকে মোবাইলে হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযোগে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের সাথে ফেসবুকে পরিচয় ঘটে উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামের তকিব উদ্দিনের মেয়ে তরুনি সোহানা খাতুনের।
এক পর্যায়ে গড়ে উঠে প্রেমজ সম্পর্ক। ওই সম্পর্কের জেরে পরবর্তীতে ২০২২ সালে দুই পরিবারের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠায় তা বিয়ের প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত গড়ায়। এ সুযোগে তরুনি সোহানা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা সাদ্দামের থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, আইফোন, পড়াশুনার খরচ ও চাকুরির প্রয়োজনে টাকাসহ নানা উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেন। সবমিলিয়ে মূল্য হয় প্রায় সাড়ে ২৪ লক্ষ টাকা। প্রবাসী সাদ্দাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ঘনিষ্টতা প্রেমজ সম্পর্ক চলার এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরের দিকে তরুনী সোহানা ও তার পরিবার বিরুপ আচরন করতে শুরু করে।
এরপর গত ২২ মে সাদ্দাম দেশে ফিরে এসে সোহানাদের পরিবারের সাথে বসাবসি করে। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে গত রমজানের ঈদের ২য় দিন তাদের বিয়ের দিনক্ষনও চুড়ান্ত করা হয়। সেই হিসাবে বিয়ের কেনাকাটাও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু, কিছুদিন যাবার পরই সোহানার পরিবার কৌশলে পারিবারিক নানা অজুহাত দেখিয়ে ওই বিয়েতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সাদ্দাম আরো জানান, বিয়ের প্রলাভনে তার নিকট থেকে এতকিছু নেবার পরও পরবর্তীতে সোহানাকে তার পরিবার অনত্র্য বিয়ে দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমনবিষয়টি জানার পর পরই সাদ্দাম তার থেকে গ্রহনকৃত অর্থ সামগ্রী ফেরত দিতে চাপ দেন। কিন্তু, প্রতারক সোহানার পরিবার ওই অর্থ ফেরত দিতে অস্বিকার করেন। সাদ্দাম হোসেন বিদেশে থাকায় তার অর্থ ফেরত পেতে গত ১৭ই মে দেশের আইনজীবির মাধ্যমে সোহানা ও তার ভাই সোহেল রানার নামে একটি লিগাল নোটিশ পাঠায়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বিয়ের প্রস্তুতি, চাকরির প্রয়োজন ও পারিবারিক বিভিন্ন অজুহাতে বিবাদিগন ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সাদ্দাম হোসেনের আইনজীবী এস. এম. মনজুরুল হক জানান, প্রলোভনে ও প্রতারনার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর জবাবে বিবাদি তরুনী সোহানার পরিবার অর্থ লেনদেন বিষয়টি অস্বিকার করে আদালতে একটি জবাব দাখিল করেছেন। সাদ্দাম হোসেন আরো জানান, লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর ১০ দিন পর ০১৭২২৮১৮৫০৮ এবং ০১৯৮৫৯৭৬১২১ নং মেবাইল থেকে পরিচয় গোপন করে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এরপরই গত ২৩ মে তিনি দেশে ফিরে ২৮ মে কালীগঞ্জ থানাতে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এদিকে বিয়ের প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেবার বিষয়টি জানতে তরুনী সোহানার ব্যবহৃত ০১৭৮৪-৫৬৬০৭১ নং মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোনের সুইচ বন্ধ পাওয়া গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :