তালতলীতে ক্ষমতার দাপটে সরকারি রাস্তা কেটে ফেলায় দুর্ভোগে দুই গ্রামের দেড় হাজার মানুষ!


হায়াতুজ্জামান মিরাজ,আমতলী প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
তালতলীতে ক্ষমতার দাপটে সরকারি রাস্তা কেটে ফেলায় দুর্ভোগে দুই গ্রামের দেড় হাজার মানুষ!
বরগুনার তালতলীতে ক্ষমতার দাপটে সরকারি রাস্তা কেটে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে দুর্ভোগে পড়ছে দুই গ্রামের দের হাজার মানুষ।
উপজেলার মৌরভী গ্রামের বাবুল দফাদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বাবুল একই এলাকার তৈয়বুর রহমান দফাদারের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা কেটে ফেলায় মৌরভী ও মোয়াপাড়া গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের স্বাভাবিক চলাচল। বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এতে স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয়রা জানান, মৌরভী গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মক্তব এবং মোয়াপাড়া গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুবাহানপাড়া গ্রামে একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে আসছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুস সোবাহান, নবী হোসেন, হুমায়রা বেগম ও আসমা বেগম বলেন, আমাদের সন্তানরা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। রাস্তা কেটে ফেলায় আমাদের চলাচলে যেমন বিঘ্ন হচ্ছে তেমনি বাচ্ছাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মাওলানা এবাদুল হক বলেন, মৌরভী ও মোয়াপাড়া গ্রামের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই রাস্তাটি। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন কাজে যেতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে।
উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া- মৌরভী সংযোগ ব্রিজ থেকে মৌরভী দফাদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৮ জুন রবিবার দিবাগত রাতে বাবুল দফাদার তার লোকজন নিয়ে বাড়ির সামনের মসজিদ থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা কেটে কৃষিজমির সঙ্গে মিশিয়ে দেন।
ওই ঘটনার পর স্থানীয় মজিবুর রহমান তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগের বিষয়টি দেখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য ৬ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চুর কাছে পাঠান।
এদিকে সোমবার (২৯ জুন) রাস্তা কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে দুই গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তারা রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়ে রাস্তা কাটায়  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিক জমাদ্দার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ দিয়ে রাস্তাটির মাটির সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বাবুল দফাদার গং ক্ষমতার দাপটে তাদের বাড়ির সামনের প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা কেটে ফেলেছে। এতে দুই গ্রামের দশ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
নিশানবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য শফিক জমাদ্দারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বাবুল দফাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি যদি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে করা হয়ে থাকে, তাহলে সিপিসি হিসেবে ইউপি সদস্যকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১