ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীতে বুুড়াগৌরঙ্গ নামে বালুমহল, বাতিলের দাবি


বাউফল প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুন ৬, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীতে বুুড়াগৌরঙ্গ নামে বালুমহল, বাতিলের দাবি

 

পটুয়াখালীর বাউফলে বছরের পর বছর ধরে ভাঙছে তেঁতুলিয়া নদীর দুই পাড়। অব্যাহত ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। শত শত পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়ায় বুড়াগৌরঙ্গ ডুবা বালুমহল নামে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছেন। এতে হুমকিতে পড়েছে নদী পাড়ের ৫০হাজার মানুষ। ভাঙন ঠেকে ইজারা বন্ধের দাবি জানিয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া, নাজিরপুর, কেশবপুর ও ধুলিয়া ইউনিয়ন তেঁতুলিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চারপাশ তেঁতুলিয়া নদী বেষ্ঠিত। আগ্রাসী তেঁতুলিয়ার অব্যাহত ভাঙনে গত ২৫ বছরে চর কচুয়া, বড় ডালিমা, নিমদী, ধানদী, তাতেরকাঠি, মমিনপুর, মাঠবাড়িয়া, ধুলিয়া, চর বাসুদেব পাশা, চরওয়াডেল, দিয়ারা কচুয়া, চরব্যারেট এলাকার হাজার হাজার একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ মন্দির, রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন স্থাপণা নদী গর্ভে চলে গেছে। তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন থামছে না। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকিতে পড়েছে- নিদমী সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়, তাতেরকাঠি- কালাইয়া পাকা সড়ক, ধানদী জামে জসজিদ, চরব্যারেট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরব্যারেট আশ্রয়ন প্রকল্প, হাট বাজার, বসতভিটা, ফসলি জমি সহ বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে তেঁতুলিয়া নদীতে বুড়াগৌরঙ্গ নদী দেখিয়ে বালু মহল ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এতে ভাঙন স্বাভাবিকের তুলনায় তীব্র আকার ধারণ করছে।

নিমদী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার, ধানদী গ্রামের ফজলুল হক, চরওয়াডেল গ্রামের রহিম মাঝি জানান, বছরের পর ধরে টেকসই বেড়িবাধের দাবি জানিয়ে আসছি। বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন এমপি মন্ত্রীরা ভাঙন পরিদর্শনে এসেছেন। তবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হুমকির মুখে আমরা জীবন-যাপন করছি। এই ভাঙন কবলিত নদীতে থেকে বালু উত্তোলন করার কারণে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজ কর্মী এবিএম মিজানুর রহমান জানান, তেঁতুলিয়া নদীতে কোনো বালুমহল নেই। একটি চক্র বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তৎকালিন জেলা প্রশাসককে ম্যানেজ করে বাউফলে বুড়াগৌরঙ্গ নামে বালুমহল ক্যালেন্ডারভুক্ত করেন। সেই নামেই বলুমহল ইজারা চলছে। চলতি বছর একইভাবে বালুমহল ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া ভুয়া নাম দিয়ে ইজারা বন্ধের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছি। তিনি পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, এ উপজেলা দুইটি ক্যালেন্ডারভুক্ত বালুমহল রয়েছে। জেলা বালুমহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এদুটি বালুমহল খাস ইজারা আদায়ের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা ভূমি অফিস। তার মধ্যে নিমদী লঞ্চ থেকে বুড়াগৌরঙ্গ ডুবা বালুমহল ভাঙন কবলিত হওয়ায় এলাকাবাসী ইজারা বাতিল দাবির আবেদন জানিয়েছে। এবিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

বিষয়টি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।