আবারো অপরাধ জগতে সক্রিয় ঝিনাইদহের সেই মালেক ও বাবুল মাস্তান, নেপথ্যে ডাকবাংলার বারি মোল্লা


ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রকাশের সময় : জুলাই ১১, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
আবারো অপরাধ জগতে সক্রিয় ঝিনাইদহের সেই মালেক ও বাবুল মাস্তান, নেপথ্যে ডাকবাংলার বারি মোল্লা
ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, কৃষক আলফাজ কুপিয়ে হত্যা করে মাথা কেটে ফুটবল খেলাসহ একাধিক হত্যা মামলার আসামী পুর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা ঝিনাইদহের সেই আব্দুল মালেক আবারো অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গোপনে নতুন করে দল গঠন করে আবারো সেই পুরোনো ত্রাস সৃষ্টির পায়তারা করছে সে। জানা যায়, হরিণাকুন্ডু উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মনির উদ্দিন কাজীর ছেলে আব্দুল মালেক পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
তার নামে ১৯৯৮ সালের ২১ মে পিন্টু বিশ্বাস হত্যা মামলা, ওই বছরের ১৭ জুন আশারত হত্যা, একই বছরের ২২ নভেম্বর মোশাররফ হোসেন হত্যা, ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল আলফাজ হত্যা মামলা হয় একাধিক মামলা ছিলো। এর মধ্যে একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয় সে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি কারাভোগ শেষে এলাকায় ফিরে প্রথমদিকে নিরব থাকলেও সময় গড়াতেই আবারও পুরোনো রূপে ফিরে এসেছে মালেক। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মালেক ডাকবাংলা এলাকার বাবলু মাস্তানকে সাথে নিয়ে দল গঠন করে আগের মতোই এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, মারধর ও লুটপাটের মাধ্যমে একটি নতুন সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিণাকুন্ডুর একাধিকচ বাসিন্দা জানান, আব্দুল মালেকের অতীতের নৃশংস কর্মকাণ্ড এখনো মানুষ ভুলতে পারেনি। তার পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এখন ডাকবাংলা এলাকার বারী মোল্লার দিকনির্দেশনায় ওই এলাকার বাবুল মাস্তান, মমিন ড্রাইভার, সালাম, তরিকুল, বিশা, সিরাজ ও ধর্ষণ মামলার আসামী কাজী আব্বাস ওরফে পিলু এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, মালেক আগে যেভাবে মানুষ হত্যা করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল, এখন আবার সেই আতঙ্ককে পুঁজি করে মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি, মারধর, এমনকি চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর করতে যায় মালেক। সেই সময়ের ভিডিও ভাইরাল হয়। মালেক নতুন করে একটি অপরাধী চক্র সংগঠিত করছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী চাঁদাবাজির মামলাও দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় আবারও অস্থিরতা ও সহিংসতা বাড়তে পারে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘সব ধরণের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১