পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল করে ঘর নির্মাণ ও পুকুরের মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুষ্ঠু সমাধান পায়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভরিপাশা মৌজার ৪০৫ ও ৪০৬ নং খতিয়ানের ৯৩ নম্বর দাগ সহ একাধিক দাগের ১২ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক আলী খান এবং মজিবুর খানের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিরোধীয় জমিতে মজিবর খান ও তার ভাইয়েরা ঘর তুলতে গেলে মোবারক খান বাঁধা দেয়। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটনা। এঘটনায় গত ২২ জানুয়ারি মজিবর খানকে বিবাদী করে পটুয়াখালী সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মোবারক খান। বাদী ওই বিরোধীয় জমিতে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থণা করলে আদালত বাদী পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে গত ২৪ মে বিরোধীয় জমিতে উভয় পক্ষেকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।

তবে মজিবর খান ও তার ভাইয়েরা আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ২৫ মে ওই জমিতে টিনসেট ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ঘ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর তুলতে বাঁধা মজিবর খান লোকজন নিয়ে বমোবারক খান ও তার ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে বাউফল থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং নিমার্ণ কাজ বন্ধ করে দেন। একদিনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোবারক খানের ছেলে দেলোয়ার খান। পরে পুলিশ উভয় পক্ষের মুচলেকা নিয়ে মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

তবে পুলিশ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মজিবর খান ও তার লোকজন ঘর নির্মাণ কাজ করেন এবং মোবারক খানের পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়।

এবিষয়ে মোবারক খান বলেন, তারা কোনো জমি পাবে না। গায়ের জোরে আমাদের জমি দখল ভোগদখল করতে চায়। কোনো শালিস বিচার মানে না। এমনকি আদালতের আদেশও মানে। পুলিশকে জানানোর পরেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

যদিও জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মজিবর খান। তিনি বলেন- ওই দাগে আমি জমি পাবো। সেই জমিতে আমি ঘর তুলছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদোত্তর দেয়নি।

এবিষয়ে থানায় দায়ের করা অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এ এস আই মো. মেহেদী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালতের নিষেধাজ্ঞ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছি। এমন কি থানায় ডেকে উভয় পক্ষের মুচলেকাও নিয়েছে। তারপরেও যদি কেউ আদালতের আদেশ অমান্য করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।