অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ এক জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচ শেষে তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন ওপেনিং জুটির দুই ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মোসাদ্দেক হোসেনের ভূয়সী প্রশংসাও করেন টাইগার অধিনায়ক।

মিরাজের মতে, বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম। তাদের ব্যাটিং দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং বড় সংগ্রহের পথ তৈরি করেছিল। ফলে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

টস হেরে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে সংগ্রহ করে ২৮৪ রান। উইকেট হারায় ৮টি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বোলাররাও দুর্দান্ত সূচনা করেন। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে শুরুটা করেন তাসকিন আহমেদ। বৃষ্টির আগে ৪২.২ ওভারে ১৯১ রানে ৯ উইকেট হারায় অজিরা।

ব্যাটে ও বলে সমান দাপট দেখিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতেছে। ফলে অধিনায়ক মিরাজের আনন্দের সীমা নেই। শান্ত ও তামিমের দুর্দান্ত সূচনার প্রশংসা করেন তিনি।

ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, “আমরা খুবই খুশি কারণ যেভাবে আমরা ব্যাট করেছি এবং শান্ত ও তামিম যেভাবে ব্যাট করেছে। সেই মুহূর্তে আমি সত্যিই, সত্যিই অনেক উচ্ছ্বসিত ছিলাম।”

দুই সেট ব্যাটার দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপও রয়েছে অধিনায়কের। তার বিশ্বাস, ওই জুটি আরও কিছুক্ষণ টিকে থাকলে বাংলাদেশের স্কোর আরও বড় হতে পারত। তবে তারা দুইজনই ফিফটি করে বিদায় নেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মনে করি আমরা আরও ভালো করতে পারতাম, বিশেষ করে শান্ত ও তামিম যেভাবে ব্যাট করেছিল তার কারণে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা দুই ব্যাটসম্যানকে দ্রুতই হারাই। তবে শেষ দিকে মোসাদ্দেক ও তাসকিন যেভাবে ব্যাট করেছে, তখন সেটা সত্যিই খুব ভালো লাগছিল।”

যখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা গতি হারাচ্ছে, তখন শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে মোসাদ্দেকের এমন পারফরম্যান্স অধিনায়ককে মুগ্ধ করেছে।

মোসাদ্দেক ৭০ বলে ৮৬ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলেন। বল হাতে শিকার করেন দুইটি উইকেট। তাসকিন করেন ১৬ বলে ২০ রান। তিনি বল হাতে নেন একটি উইকেট। অষ্টম উইকেটে ৩৩ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন তাসকিন ও মোসাদ্দেক।

মোসাদ্দেককে নিয়ে মিরাজ বলেন, “মোসাদ্দেকের জন্য এটা কঠিন ছিল, কারণ অনেক দিন পর সে ফিরে এসেছে এবং যেভাবে সে পারফর্ম করেছে, সেটা অসাধারণ। আমি মনে করি সেই মুহূর্তে তার পারফর্ম করাটা খুব দরকার ছিল।”

বাংলাদেশ দলের লড়াইয়ের মানসিকতা এবং চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতাকেও বড় করে দেখছেন মিরাজ। তার মতে, দলের ক্রিকেটাররা প্রমাণ করেছেন যে তারা কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

অধিনায়ক বলেন, “তারা দেখিয়েছে তাদের চরিত্র আছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি সত্যিই খুব খুশি, এবং আমাদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে এবং মোমেন্টাম বজায় রাখতে হবে।”

জয়ের আনন্দের মাঝেও তাই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং সামনের ম্যাচগুলোতেও একই ধরনের মানসিকতা, ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে এগিয়ে যেতে চান তিনি।