রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের শাহজাদপুরে এক প্রভাবশালী পরিবারের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে মাদক ও জুয়ার রমরমা সাম্রাজ্য। রাজনৈতিক পরিচয় ও অদৃশ্য শক্তির দাপটে শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে চলছে এসব অবৈধ কার্যক্রম। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গুলশান থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে এই অপরাধী চক্র।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর বাঁশতলা জি.পি.খ- ৭৭/৮ নম্বর বাড়িখানি অপরাধের মূল আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা স্থানীয় ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সহিদ সরকার এবং তাঁর স্ত্রী মনি বেগম। এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের মেয়ে লিমা, মেয়ের জামাতা (যিনি এলাকায় ‘ফেনসিডিল মানিক’ নামে পরিচিত) এবং ছেলে মেহেদি জয় শাহজাদপুর ও বনানী এলাকায় মাদকের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, ওই বাসায় নিয়মিত বসছে বড় বড় জুয়ার বোর্ড, যা নিয়ন্ত্রণ করে এই পরিবারটি।
স্থানীয় বাসিন্দা মায়া খাঁন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সহিদ সরদার ও মনি বেগমের ছেলে, মেয়ে এবং জামাতার বিরুদ্ধে গুলশান ও বনানী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এরা শাহজাদপুরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আনাগোনার কারণে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সহিদ সরদারের শালা বনানীর কুখ্যাত ‘ফর্মা শহীদ’ হিসেবে পরিচিত, যাঁর অপরাধ জগতের যোগাযোগ এই সিন্ডিকেটের হাতকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এলাকাবাসী জানান, এই অপরাধ চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং এলাকার শান্তি ফিরিয়ে আনতে গুলশান থানায় একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো এক ‘অদৃশ্য কারণে’ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতায় অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকার মাদকের আখড়া ও জুয়ার বোর্ড বন্ধ করতে এবং এই চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।