পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি হিন্দু পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি, মিথ্যা মামলার হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে মোসা. সাথী আক্তার (২৮) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কালাইয়া সিনেমা হল রোড এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হিন্দু পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মধুসূদন দাসের ছেলে আশিষ দাস লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাথী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন। একই সঙ্গে তাদের কাছে অর্থ দাবি এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
আশিষ দাসের দাবি, ২০২৩ সালে তার বড় ভাই উত্তম দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন সাথী আক্তার। পরে আদালতে অভিযোগ স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে না পারায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। একই ভবিষ্যতে আর হয়রানি করবেন না বলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অঙ্গীকার করেন মামলার বাদী।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ৫ জুন রাতে আশিষ দাসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সাথী আক্তার অর্থ দাবি করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আশিষ দাস আরও বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। ওই ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান। মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে এবং তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ সাথী আক্তারকে ব্যবহার করছে।
মধুসূদন দাস বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অতীতেও বিভিন্ন কারণে তার পরিবার হয়রানির শিকার হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বারবার হুমকি এবং অর্থ দাবির কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অস্বিকার করে সাথী আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, উত্তম দাসের সঙ্গে আমার দীর্ঘ ১৪ বছরের সম্পর্ক। সম্পর্ক থাকা কালীন আমার জন্য খরচ করছে। এখন করতেছে না। আমি এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেছি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।