২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রকল্পটির জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খাত উল্লেখ না থাকায় জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।

শুক্রবার গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়াইবাড়ি স্কুল মিলনায়তনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের উপজেলা কমিটির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে কত টাকা ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অর্থ অনুমোদনের বিষয়টি বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তিস্তা মহাপরিকল্পনা কবে একনেকের অনুমোদন পাবে, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়নের বিকল্প উৎস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সঞ্চয়পত্রের আদলে ‘তিস্তা বন্ড’ চালু করতে পারে। পাশাপাশি তিস্তা নদী থেকে উত্তোলিত বালু ও পাথর বিক্রির অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার চূড়ান্ত সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন। সমীক্ষা অনুযায়ী প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি উদ্ধার হবে। উদ্ধারকৃত জমিতে তিস্তা অববাহিকায় বসবাসরত মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসনের সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে শিকস্তি-পয়স্তি আইন এখানে কার্যকর না করার প্রস্তাবও সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “উদ্ধারকৃত জমিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, আধুনিক কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং নতুন নগরায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রতীকী মূল্যে তিস্তার হাজার হাজার একর জমি খাস হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল রূপরেখার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

সংগঠনের গঙ্গাচড়া উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নূর দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মাহমুদুল আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আশরাফুল ইসলাম এবং উপজেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকে অনুমোদন, বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী প্রতিটি ওয়ার্ড, হাট ও বাজারে ধারাবাহিক সভা-সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।