বাবা–মাকে সন্তানেরা দেখবে কিনা, শ্বশুর–শাশুড়ি পুত্রবধূর সঙ্গে কী আচরণ করেন, স্বামী স্ত্রীর পাশে দাঁড়ান কিনা, এই তিনটা প্রসঙ্গ এখন বেশ আলোচিত হচ্ছে। দেশে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনাবলির পরে নানা জনেই কথা বলছেন। আমি পপুলিস্ট কথা বলব না। আনপপুলার কিছু কথা বলি।
সারা পৃথিবীতেই শাশুড়ি একটা সমস্যা। পশ্চিমা দেশে কৌতুক আছে, একটা বাঘ যদি তোমার শাশুড়ির সামনে এসে পড়ে, তুমি কী করবে? আমি কী করব, বাঘ নিজের দায়িত্বে এসেছে, সে নিজে সামলাক।
এটা কিন্তু ছেলে বলছে, পুত্রবধূ না। পশ্চিমে সমস্যা হলো, মেয়ের সংসারে মা খুব হস্তক্ষেপ করেন। এটা তারা চায় না। আমি কি আমাদের মায়েদের বলতে পারব, আপনার বিবাহিত মেয়ের সংসারে নাক গলানো থামান?
আর পুত্রবধূদের সঙ্গে কিছু কিছু শাশুড়ির আচরণ সাইকোলজিকাল ডিজঅর্ডারের পর্যায়ে পড়ে। পুত্রবধূর কিছুই তাঁদের ভালো লাগে না।
আর প্রায় সব মেয়েই নিজের সংসার করতে চান। কী রান্না হবে থেকে শুরু করে কী রঙের পর্দা লাগানো হবে, এটার সিদ্ধান্ত তারা নিতে চান। শাশুড়ির হস্তক্ষেপ কোনো মেয়েই সাধারণত পছন্দ করেন না।
শাশুড়ি–পুত্রবধূ দ্বন্দ্ব প্রাচীন ও প্রায় কমন।
এবার বাবা–মার দৃষ্টিকোণ থেকে বলি। বাবা–মা সন্তানের কাছে মনোযোগ চান, একটু সুন্দর কথা, একটু সুন্দর জেশ্চারের কাঙাল হয়ে থাকেন তারা।
কিন্তু কোনো বাবা/মা যদি আশা করেন, আমি সন্তানের জন্য এত কিছু করলাম, ওরা কেন আমার জন্য করবে না? সেটা সাধারণত পূরণ হবে না। কারণ, আমার সন্তান আমার জন্য করবে না, তার সন্তানের জন্য করবে। স্নেহ নিম্নগামী। কাজেই বাবা–মার উচিত সন্তানের ওপর মুখাপেক্ষী না হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করা। যেন তিনি নিজের সেবা, নিজের চিকিৎসা, নিজের ভরনপোষণ, নিজের কেয়ার–গিভার নিজেই নির্বাহ করতে পারেন।
যদিও আমরা এমন সন্তান দেখেছি, মন্ত্রী বাবার ধানমন্ডি বা বনানীর বাড়ি জোর করে দখল করে নিয়ে নিজে উঠে পড়েছে, বাবা মার জিনিস ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। জগত বিচিত্র। ভাইস চ্যান্সেলর বাবাকে ঘরে বন্দি করে রেখেছে সন্তানেরা। এইসব ক্ষেত্রে ভালো হলো, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নেয়া। মানসিকভাবে চিকিৎসা লাগলে চিকিৎসা নেয়া। আশ্রমে যেতে হলে আশ্রমে যাওয়া।
এই জন্য বলি, আসেন, বৃদ্ধ অবস্থায় থাকার জন্য সব বৃদ্ধ মিলে নিজেরা একটা করে সেন্টার বানাই। সবাই মিলে থাকব, খাব, খেলব, বেড়াব, প্রার্থনা করব, বিনোদন করব। আবার সবার চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। এ রকম উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে দেশে।
৩. সন্তানদের বলব, বাবা–মার যত্ন নিন। হাদীস–কোরান এবং ধর্মগ্রন্থসমূহের উপদেশ মান্য করুন।
এখন সন্তানদের ভেতর থেকে প্রশ্ন আসছে, টক্সিক রিলেশনের বাবা–মাকে নিয়ে কী করব? চিকিৎসা দিতে গেলে নেবেন না তাঁরা। আর তাঁরা সন্তান, পুত্রবধূ, মেয়ে, জামাতার জীবন অতিষ্ঠ করে ছাড়েন। কী করা যাবে?
ভাবুন। আমি কোনো তল পাই না। আপনারা যদি পান, জানাবেন।
তবে, সাধারণীকৃতভাবে কথা বলব না। ভালো বাবা–মা আছেন, তারাই বেশি, ভালো শ্বশুরশাশুড়ি আছেন, অনেক, ভালো সন্তান আছেন, প্রচুর, ভালো পুত্রবধূ আছেন, জামাতা আছেন। ভালো মানুষ আছেন। অনেক। তবে, আমার আম্মাকে আমাদের এক পাড়াত আন্টি বলেছিলেন, না হতে পারলাম সেকালের শাশুড়ি, না হতে পারলাম একালের পুত্রবধূ। এই রকম চিপায় পড়া একটা জেনারেশন কিন্তু আছে। শাশুড়ির ঝাড়ি, মায়ের ঝাড়ি খেয়ে এখন মেয়ের ঝাড়ি, বউয়ের মলিন মুখ দেখেন।