বরগুনার আমতলীতে একই রাতে মসজিদ, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। 
চোরের দল প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও সিগারেটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে কোন এক সময় সংঘবদ্ধ চোরের দল উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রাম ঘোপখালী জামে মসজিদ, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্থানীয় চা সিগারেট ব্যবসায়ী শানুর দোকানের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। চোরের দল প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের আলমিরা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করে এবং টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
চোরের দল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১টি ল্যাপটপ ও নগদ ২০ হাজার টাকা, ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১টি ল্যাপটপ, মসজিদ থেকে আলমিরা ভেঙে দানবাক্সের টাকা এবং চা দোকানি শানু হাওলাদারের দোকান থেকে বেশ কিছু সিগারেট চুরি করে পালিয়ে গেছে।
চুরি হওয়া ঘোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শ্বেদা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে চোরের দল ভিতরে প্রবেশ করে আলমিরা ভেঙে ১টি ল্যাপটপ এবং নৈশ প্রহরীর রাখা নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, ওই চুরির ঘটনায়  আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, ১টি কক্ষ ছাড়া পরিষদের প্রায় সকল কক্ষের তালা ভেঙে আলমিরা তছনছ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে। এছাড়া ১টি ল্যাপটপ ও নগদ ২০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চোরের দল সক্রিয় রয়েছে। অহরহ চুরির ঘটনা ঘটছে। তারই ধারাবাহিকতায় একই রাতে চারটি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে। দ্রুত তারা চোরের হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে  পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হুসাইন মুঠোফোনে বলেন, চুরির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।