পটুয়াখালীর বাউফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির মটরসাইকলে শোডাউনে হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন দাশপাড়া ইউপি সদস্য ও দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল মামুন। ওই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং যুবদল ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী সহ ৫০জনকে আসামী করা হয়। মঙ্গলবার (৩০জুন) দুপুরে মামলার ৫ নম্বর আসামী কালাইয়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি মো. ইমরান খানকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৭জুন) রাতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কালাইয়া বন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মটরসাইকেল শোডাউন বের করেন। ওই শোডাউন থেকে বন্দরের রিয়াজ মোল্লা মার্কেট এলাকায় অবস্থানরত জামায়াত সমর্থক আবদুল হাই ওরফে রিপ্পির ওপর হামলা চালানো হয়। পরে শোডাউনটি বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌর শহরে ফেরার পথে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে অন্ধকারে ওঁতপেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় বিএনপির অত্যন্ত ১৫জন আহত হয়। একই সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রায় ২০টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল মামুন (৪০), মো. কাওছার (৩৫) ও মো. মাকসুদুর রহমানকে (২৮) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বিএনপি নেতা আল মামুন বাদী হয়ে গতকাল সোমবার রাতে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহাজরে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেনো অরজগতা করতে না পারে সেই লক্ষে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সন্ত্রাসী বিরোধী মটরসাইকেল শোডাউন বের করেন। শোডাউনটি কালাইয়া থেকে দাশপাড়া বাস স্ট্যান্ড এলাকা পৌছালে দাশপাড়া সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এএনএম জাহাঙ্গীরা হোসেনের নেতৃত্বে ও হুমকি পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় মামলার বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্য কোপানো হয়। এছাড়াও প্রায় ১৫জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। প্রায় ২০টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান আসামী করা হয়। এছাড়াও তার ছেলে মো. ইমরান, শ্যালক বদরুল হাসান সুমন, মো. সাইফুল ইসলাম মামুন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা রাসেল প্যাদা, তার ভাই ছাত্রলীগ নেতা রাব্বী, কালাইয়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি ইমরান খান, কালাইয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সাংগঠন সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন, জামায়াতের কর্মী ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের সহ-সভাপতি রমিজ উদ্দিন কেরানী, তার ভাই রিয়াজ কেরানী, জামায়াত সমর্থক রিপ্পি ও কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদল কর্মী মো. উজ্জল মাদবর সহ ৫০জনের নাম উল্লেখ আসামী করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জন আসামী করা হয়।

বাউফল থানার ভা্রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।