পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের নাওডোবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন সক্রিয় হয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় টেম্পু স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন সামচুল হক বেপারী ওরফে ‘চাপাতি সামচু’। তিনি পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন টেম্পু স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
চাপাতি সামচুর পৈত্রিক বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের কালু বেপারীকান্দি গ্রামে। সরকার পরিবর্তনের আগে তার মৃত্যুর পর ওই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আসেন তার তিন মেয়ের জামাতা অপু বেপারী, কামাল বেপারী ও মিজানুর রহমান বাবু চৌধুরী এবং ছেলে রনি বেপারী। অপু বেপারী ও কামাল বেপারী সম্পর্কে আপন ভাই।
সম্প্রতি এ চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি আব্দুস সালামের নেতৃত্বে এসআই মুহাম্মদ আবু বক্করসহ পুলিশের একটি দল নাওডোবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন ব্যক্তির কাছে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। এ কারণে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাদের আটক করে আদালতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি আব্দুস সালাম বলেন, “নাওডোবা বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের সময় দায়িত্ব পালনের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় পাঁচজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”