দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মহেশপাড়া (তালুরডাঙ্গা) গ্রামের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর, নগদ টাকা ও ফলদ গাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মহেশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফুল আলম জানান, একই গ্রামের শাহীন আলম (৩৫), ইসমাইল মিয়া (৫০), হযরত আলী (৫০)সহ কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
তার অভিযোগ, গত ১৭ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ২০-২৫ জন লোক নিয়ে তার আমবাগানে প্রবেশ করে আম পাড়া ও আকাশমণি গাছ কাটতে শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী সিনথিয়া খাতুন (৩৫)-কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার মা পাপিয়া বেগম (৫০)-কেও মারধর করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে কয়েকদিন আগে জমি বিক্রির ১০ লাখ টাকা রাখা একটি বাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া বাগান থেকে প্রায় ৬০ মণ আম, যার আনুমানিক মূল্য ৯০ হাজার টাকা এবং দুটি আকাশমণি গাছ, যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা, কেটে নিয়ে যায়।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনার দিন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করে।
এ ঘটনায় ১৭ জুন নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পেয়ে গত ২৪ জুন দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুল আলম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নবাবগঞ্জ থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। মামলার নম্বর: সি.আর.-১৭৭/২০২৬।
আশরাফুল আলম বলেন, “আমি পরিবার নিয়ে এই গ্রামেই বসবাস করি। প্রতিপক্ষের লোকজন সংখ্যায় বেশি হওয়ায় তারা প্রায়ই আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ভবিষ্যতে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই সামছুল আলম বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার কপি পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।