কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের ভেতর প্রবেশ করা প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জনবহুল এই সড়কটির সংস্কারের অভাবে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়কজুড়ে জলাবদ্ধতা ও কাদাপানির দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে স্থানীয়দের।
এছাড়াও এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন দূর-দূরান্ত থেকে কচাকাটা হাটে আসা হাজারো মানুষ। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই পথে চলাচল করে রিকশা, অটোরিকশা, মালবাহী ট্রাক, সিএনজি, করিমনসহ বিভিন্ন যানবাহন। বাজারের ভেতর দিয়ে সড়ক হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
গর্ত ও কাদাপানিতে ভরা ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি নাজুক অবস্থায় থাকলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কচাকাটা বাজারের ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমানসহ অনেকেই জানান, দোকানের সামনে সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় কমে গেছে ক্রেতাদের আনাগোনা। ফলে বিক্রি কমে গিয়ে চরম লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
কচাকাটার গাবতলী থেকে বাজারে আসা পথচারী জাহাঙ্গীর আলম ও আফজাল হাসান বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল বা কোনো যানবাহন চালানো তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কঠিন। কাদাপানিতে চলতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হচ্ছেন।”
শিক্ষার্থী শিউলি খাতুন ও আলমগীর হাসান জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বিকল্প কাঁচা রাস্তা দিয়ে গেলে অনেক দূর ঘুরতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কাদাপানিতে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় স্কুলে যাওয়ার পথ থেকেই ফিরে আসতে হয়।
এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মামুনুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।