মাসিক ৬০ হাজার টাকা থানা পুলিশকে দিয়ে ব‍্যবসা করি,তোরা আমার কিছুই করতে পারবি না -মহিলা মাদক ব্যবসায়ী


ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রকাশের সময় : জুন ১৫, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
মাসিক ৬০ হাজার টাকা থানা পুলিশকে দিয়ে ব‍্যবসা করি,তোরা আমার কিছুই করতে পারবি না -মহিলা মাদক ব্যবসায়ী
প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না, আমি প্রতি মাসে থানায় ৬০ হাজার টাকা মাসোহার দিয়ে ব‍্যবসা করি বলে মন্তব্য করেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের নদী পাড়ার রুপালি খাতুন নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ী। গত শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০ টার দিকে স্থানীয়রা মাদক ব‍্যবসা বন্ধ করার কথা বলতে ওই নারীর বাড়িতে গেলে সে স্থানীয়দের উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন। এঘটনার পর মাদক বিরোধী স্থানীয়রা কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। 
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এষে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী রুপালির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে ২৫ পিচ ও তার ছেলে আল-আমিনের কাছ থেকে ১৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির এগার হাজার পঁচাত্তর টাকা উদ্ধার করে। রবিবার (১৪ জুন) সকালে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
রুপালি খাতুন (৪০) শহরের নদী পাড়া এলাকার মিজান হোসেনের স্ত্রী এবং আল-আমিন (২২) ওই দম্পতির ছেলে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা জুড়ে মাদকের ব্যাপক বিস্তার লাভ করায় স্থানীয়রা তা প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১১ ও ১৩ তারিখে পাইকপাড়া গ্রাম থেকে দুই যুবককে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার রাতে স্থানীয়রা শহরের আড়পাড়ার নদীপাড়া এলাকার রাসেল ও রুপালি খাতুনের বাড়িতে যায় মাদক ব‍্যবসা থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন।
আড়পাড়া নদীপাড়ার বাসিন্দা টিটোন হোসেন নামের এক যুবক জানান, আমরা স্থানীয় ১৮/২০ জন মিলে নদী পাড়ার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের মাদক বিক্রি বন্ধ করতে বলি। এ সময় রুপালি নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ী ও তার ছেলে আল-আমীন আমাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বলে প্রশাসনও আমার কিছু করতে পারবে না, আমি থানা পুলিশকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ব‍্যবসা করি।এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী রুপালী ছেলে কয়েকজনকে মারপিটও করেন। এরপর সেখানে কালীগঞ্জ থানার ওসিসহ পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হলে স্থানীয়রা ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশদের সাথে নিয়ে রুপালির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ও তার ছেলে আল-আমিনের কাছ থেকে ৪০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির এগার হাজার পঁচাত্তর টাকাসহ আটক করা হয়।
এবিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, কেউ প্রমাণ দিতে পারবেন না যে,যদি পারে তাহলে ব্যবস্থা নিবো। কালীগঞ্জ থানার কাউকে মাদকের একটি টাকা দিয়েছে যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমরা ওয়ান-টুর মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব ইনশাআল্লাহ।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০