বরগুনার আমতলীতে গরু চুরি করতে গিয়ে বাড়ীতে পালিত পোশা কুকুরের কামড়ে আহত সোবাহান মৃধা (৫৫) নামের এক চোর আটক করেন গৃহীনি তানিয়া আক্তার সুখী।
জানা গেছে, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের আহসানুল করিম নিয়াজের বাড়িতে গরু চুরি করতে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে ওই এলাকার চিহ্নিত চোর সোবাহান মৃধা। ওই সময় গরুর মালিকের পালিত পোশা কুকুরটি তাকে ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি কামড় দেয়। একপর্যায়ে তিনি কাবু হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে বাড়ির গৃহিণী ধরে ফেলেন।
গৃহীনি তানিয়া আক্তার সুখী বলেন, আমার স্বামী আহসানুল করিম নিয়াজ চাকুরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। আমি আর আমাদের সন্তানদের নিয়ে বাড়িতেই বসবাস করি। আমার স্বামীর অনুপস্থিতিতে এলাকার চিহ্নিত চোর সোবাহান প্রায়ই আমাদের বাড়ির পুকুর থেকে মাছ, তরিতরকারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করে। তার নির্যাতনে এলাকার মানুষ এখন অতিষ্ঠ।
তিনি আরো বলেন, চোরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে আমরা বাড়ীতে একটি কুকুর লালন-পালন করতে শুরু করি। ঘটনার সময় হঠাৎ করে কুকুরের ডাকাডাকির শব্দ পেয়ে আহত অবস্থায় চোরকে ধরে ফেলি। পরে এলাকার লোকজন এসে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে আটক করে ওই রাতেই চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
ওই ঘটনায় গৃহিণী তানিয়া আক্তার সুখি আটক চোরের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
গৃহবধূ তানিয়া আক্তার সুখী বলেন, সোবাহান গরু চুরি করতে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে। আমার পালিত কুকুরটি টের পেয়ে ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি কামড়ে তাকে কাবু করে ফেলে। পরে আমি গিয়ে তাকে ধরে লোকজনকে খবর দেই। তারা এসে জরুরি পরিসেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে চোরকে আটক করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, আটক চোর সোবহানের শরীরের একাধিক স্থানে কুকুরের কামড়ের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ মুঠোফোনে বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত আটক চোর সোবহানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি, তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :