
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণ বা সহায়তার অপেক্ষা না করে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পীরগাছা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী ছাওলা ইউনিয়নে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা ও বর্ধিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফরকে ঘিরে তিস্তা পাড়ের মানুষের প্রত্যাশা বাড়লেও শঙ্কা ও ধোঁয়াশা কাটেনি। তিনি বলেন,তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশি ঋণ বা সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে নিজস্ব অর্থায়নের বিষয়টিকে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা চীনের কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারি, কিন্তু অর্থায়নের ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়নের জন্য সঞ্চয়পত্রের আদলে ‘তিস্তা বন্ড’ চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি তিস্তা নদী থেকে উত্তোলিত বালু ও পাথর বিক্রির আয় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে আমরা সরকারি ও বিরোধী দলকে জাতীয় সংসদে সংশোধিত বাজেট উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “চীন, ভারত, রাশিয়াসহ কোনো উন্নয়ন সহযোগী দেশ যদি প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, তবে তা অবশ্যই স্বল্প সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদি শর্তে হতে হবে।”
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, তিস্তার ভাটিতে নতুন করে আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণের প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করেন না। তিনি বলেন, “বিদ্যমান ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে নতুন ব্যারাজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে যাবে। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী তিস্তা নদী ১০ মিটার পর্যন্ত খনন এবং শাখা, উপনদী ও প্রশাখাগুলোকে মূল নদীর সঙ্গে পুনঃসংযুক্ত করা সম্ভব হলে এগুলো বর্ষাকালে প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, যা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করে।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের ছাওলা ইউনিয়ন শাখার সংগঠক আব্দুস ছাত্তার মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা বাবুল আক্তার, রফিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় নদী সংগঠক আব্দুস সালাম।
সভা থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন, সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ এবং সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আগামী ১ জুলাই তিস্তা তীরবর্তী পাঁচ জেলায় ঘোষিত গণঅবস্থান ও মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংগঠনের নেতাকর্মী এবং তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :