স্বামীর ভিটা থেকে বৃদ্ধা বিধবাকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সৎছেলের বিরুদ্ধে


ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
স্বামীর ভিটা থেকে বৃদ্ধা বিধবাকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সৎছেলের বিরুদ্ধে
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক অসহায় বৃদ্ধা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের লাক্সারি ডাইন রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক জহুরুল মাস্টারের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। তবে স্বামীর প্রথম পক্ষের ছেলে মো. কবির উদ্দীন মিঠু শুরু থেকেই তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন এবং বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, তার স্বামীকে চিকিৎসার নামে জন্মনিয়ন্ত্রণের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল, যাতে তাদের কোনো সন্তান না হয়। এছাড়া প্রায় পাঁচ বছর আগে সকালে কিছু ওষুধ খাওয়ানোর পর তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ওই দিন রাতেই মারা যান। এ ঘটনাকে ঘিরে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সৎছেলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। তার ঘরে থাকা নগদ টাকা, ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার, কাপড়চোপড়, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া বাড়ির টিউবওয়েল, বাথরুম ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে স্বামীর ভিটাছাড়া করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বৃদ্ধা জানান, বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ থানার ফয়লা মাস্টারপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। তার দাবি, স্বামীর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে তাকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করে এককভাবে ভোগদখল করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি। বরং তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, তার বয়স ৬০ বছরের বেশি। তিনি নিঃসন্তান, অসহায় এবং উপার্জনক্ষম নন। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে তার আর্থিকভাবে চরম কষ্ট হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তার স্বামীর সম্পত্তিতে আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কবির উদ্দীন মিঠুর বলেন, উনি সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়, উনি আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। আমাদের এখানে জমি আছে মাত্র ৩ শতক। ওনাকে থাকার জন্য একটি ঘর দিয়েছি। উনি সেখানে থাকেন না। আর এসব বিষয় নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। উনি যে রায়ের কথা বলছেন, সেটা আদালত থেকে ওনাকে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এটা অনেক পুরাতন কাহিনী, সাবেক এমপি আনার ভাইসহ অনেকেই এই বিষয়টা নিয়ে একাধিকবার বিচার সালিশ করেছেন। তবু কোন সমাধান উনি মানেননি। আর আপনি সরাসরি আসলে আমি বিস্তারিত আপনাকে বলবো।

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১