বসুন্ধরা: রাজধানীর একটি পরিকল্পিত


সুপন রায় প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
বসুন্ধরা: রাজধানীর একটি পরিকল্পিত

 

রাজধানী ঢাকার নগরায়ণের ইতিহাসে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। অপরিকল্পিত নগর বিস্তার, জনসংখ্যার চাপ এবং আবাসন সংকটের মধ্যে বসুন্ধরার যাত্রা শুরু হয় একটি পরিকল্পিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক নগর গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু একটি আবাসিক এলাকা নয়, বরং রাজধানীর অন্যতম প্রভাবশালী নগর উন্নয়ন মডেলে পরিণত হয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের সূচনালগ্নে লক্ষ্য ছিল ঢাকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত আবাসিক অঞ্চল গড়ে তোলা। তখন ঢাকার কেন্দ্রীয় অংশে জনসংখ্যার চাপ দ্রুত বাড়ছিল, ফলে নতুন আবাসনের চাহিদা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিমালিকানাধীন উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে বসুন্ধরার যাত্রা শুরু হয়।

প্রকল্পের নকশায় রাস্তা, ব্লক, আবাসিক প্লট, বাণিজ্যিক জোন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য পৃথক স্থান রাখার পরিকল্পনা করা হয়—যা তখনকার ঢাকার প্রচলিত আবাসন ব্যবস্থার তুলনায় অনেকটাই আধুনিক ধারণা ছিল।

সময়ের সঙ্গে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়। প্রথম পর্যায়ের আবাসিক প্লট বিক্রির পর এখানে বসবাস শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং শপিং সুবিধা গড়ে ওঠে।

বিশেষ করে সড়ক নেটওয়ার্ক, ব্লকভিত্তিক পরিকল্পনা এবং তুলনামূলক প্রশস্ত রাস্তা বসুন্ধরাকে ঢাকার অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার থেকে আলাদা করে তুলেছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে এখানে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত নগর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে নগরবিদরা মনে করেন।

বসুন্ধরার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আসে। বিভিন্ন নামকরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল গড়ে ওঠে, যা এলাকাটিকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নগর অঞ্চলের দিকে নিয়ে যায়।

এ ছাড়া শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন কেন্দ্র এবং কর্পোরেট অফিস স্থাপনের ফলে এটি শুধু আবাসিক এলাকা নয়, বরং একটি বাণিজ্যিক হাব হিসেবেও পরিচিতি পায়।

বসুন্ধরার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নিজস্ব নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো। নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ সেবা ব্যবস্থাপনা এলাকাটিকে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত করে তুলেছে।

এই কারণে অনেক বাসিন্দা এখানে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা পান বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া একটি বৃহৎ বেসরকারি আবাসন প্রকল্প হিসেবে এর প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে বসুন্ধরার পথচলা ঢাকার নগরায়ণের একটি পরিবর্তনশীল বাস্তবতার প্রতিফলন। এটি দেখায়—কীভাবে ব্যক্তিখাতের উদ্যোগ একটি শহরের আবাসন ও বাণিজ্য কাঠামোকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে, আবার একই সঙ্গে নগর শাসন ও সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।

আজ বসুন্ধরা কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়; এটি ঢাকার আধুনিক নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যার সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই রাজধানীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য শিক্ষণীয়।

লেখক : সাংবাদিক