দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে ৩৬ শতক জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের বিরাহিপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ঢোল পিটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল হস্তান্তর করা হয়।
জমির মালিক লগেন কিস্কু জানান, ক্রয়সূত্রে তিনি জমিটির বৈধ মালিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের দখলে থাকায় ভোগদখল করতে পারছিলেন না। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবশেষে তিনি জমির দখল ফিরে পেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদালতের নিযুক্ত প্রতিনিধিদল সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জমি পরিমাপ করেন। পরে উদ্ধারকৃত জমির সীমানা নির্ধারণে লাল নিশানা গেড়ে চিহ্নিত করা হয়।
এলাকাবাসী ও আদালত নিযুক্ত কমিশনার অ্যাডভোকেট আনারুল হক মানিক জানান, ২০১০ সালে স্থানীয় নারায়ণ চন্দ্র মহন্ত গংদের সঙ্গে ৩৬ শতক জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন লগেন কিস্কু। একাধিক সালিস বৈঠকেও সমাধান না হওয়ায় তিনি দিনাজপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালে আদালত লগেন কিস্কুকে জমির বৈধ মালিক ঘোষণা করে রায় দেন। পরে প্রতিপক্ষ জেলা জজ আদালতে আপিল করলেও ২০২৫ সালে সেই আপিল খারিজ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল আদালত চূড়ান্ত আদেশে জমির দখল লগেন কিস্কুর কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের পক্ষে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপ করা হয় ও জারি কারক কাওসার আলমের উপস্থিতিতে দখল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল লগেন কিস্কুর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
লগেন কিস্কু বলেন, “আমি আইনের প্রতি আস্থা রেখে প্রতিকার চেয়েছিলাম। দীর্ঘদিন পর আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন হলো। আদালতের প্রতিনিধি এসে আমাকে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।”
দিনাজপুর সহকারী জজ আদালতের জারি কারক কাওসার আলম বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
আপনার মতামত লিখুন :